ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে পাকিস্তান সীমান্তবর্তী চাবাহার মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের (সিএফজেড) কাছে থাকা সামরিক স্থাপনায় মার্কিন যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
ভয়েস অব আমেরিকার ফারসি বিভাগ জানায়, ওমান উপসাগর সংলগ্ন এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অঞ্চলের পেছনের পাহাড়ে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ১৯৯২ সালে সিস্তান-বালুচেস্তান প্রদেশে প্রতিষ্ঠিত এই অঞ্চলটি মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সাথে ভারত মহাসাগরের সংযোগকারী একটি কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, যা হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সরাসরি আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রবেশের সুযোগ করে দেয়।
চাবাহার অঞ্চলের এই হামলা ভারতের জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ এই বন্দরটি ভারতের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু। ভারত এই বন্দরের মাধ্যমে পাকিস্তান ছাড়াই আফগানিস্তান, মধ্য এশিয়া এবং ইউরোপে সরাসরি পণ্য পরিবহনের সুযোগ পায়। ২০২৪ সালে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড (আইপিজিএল) চাবাহারে ৩৭০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের জন্য ১০ বছরের একটি চুক্তি সই করেছিল।
এছাড়া ২০৩০ সাল নাগাদ ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভারত চাবাহারকে একটি স্থিতিশীল বাণিজ্য রুট হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকরভাবে বন্ধ রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে চলাচলে বাধা দেয়, তবে তাদের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপরও হামলা চালানো হতে পারে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই চাবাহারের মতো স্পর্শকাতর বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক এলাকায় সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হলো।
বর্তমানে চাবাহার বন্দর ভারতের মানবিক সহায়তা এবং আঞ্চলিক সংযোগের প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় এই হামলা ভারতের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রকল্পের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হামলার বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে ট্রাম্প প্রশাসন হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে চীন, ফ্রান্স, জাপান এবং যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান অব্যাহত রেখেছে, যদিও এখন পর্যন্ত কোনো দেশ এই বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি দেয়নি।


